অর্থই অনর্থের মূল, ছোটবেলায় বইতে পড়া একটা কথা। একথা কি আসলেই সত্য? যদি সত্য হয়ও তবুও সবসমেয়ের জন্য না, সবার জন্য না। ধরুন আপনি ছোটখাটো ঋণগ্রস্ত একজন মানুষ, আপনার ঋণের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা। পরিমাণ টা যতই হোক না কেন, ঋণ তো, এর চেহারা সত্যিই ভয়ংকর। পাওনাদার আপনার দরজায় কড়া নাড়ছে, এখন অবশ্য কেউ আর দরজায় কড়া নাড়ে না, মোবাইলে নাড়ে, ফেসবুকে নাড়ে, পাওনা ফেরত চেয়ে ইমেইলও করতে পারে। যেখানেই নাড়ুক নাড়াটা আপনার সারা শরীরই কাঁপিয়ে দেবে। ধরুন আপনার পকেটে আছে পাঁচ টাকা, পাওনাদার তখন পাওনা ফেরত চাইল, তখন অর্থ জিনিস টা কি সেটা আপনি প্রত্যেকটা সেকেন্ডেই টের পাবেন। আসলে এই অর্থনীতি শব্দটাকে আমরা কখনই অগ্রাহ্য করতে পারিনা। হ্যা, অর্থনীতি মানেই জীবনের সব সুখ শান্তি তেমনটা নয়, কিন্তু এটা এমন একটা কিছু যা এই সুখ শান্তি বলুন আর যাই বলুন সবকিছুর সাথেই সম্পর্কযুক্ত। মননীতি আর অর্থনীতির একটা গাড় সম্পর্ক আছে, পকেটের অবস্থা যখন খারাপ তখন পকেটের চেহারাটা আপনার মুখের চেহারায় প্রভাব ফেলে। আসলে শুধু মুখ না, পুরো শরীরেই প্রভাব ফেলে। কারো সাথে কথা বলছেন, উনার কথার প্রত্যুত্তরে শুধু হ্যা হ্যা করছেন, আপনি কিন্তু উনার একটা কথাও শোনেননি, শুনবেন কি করে, আপনি তো আছেন অন্য দুনিয়ায়। হাসিটা তখন অনেক কষ্টে বের হয়, খুব করুণ অর্থনৈতিক অবস্থায় মনে হয়না কেউ মনখুলে হাসতে পারে। যখন আপনি হাঁটবেন তখন দেখবেন আপনার পা একদিকে হাঁটছে আর আপনি একদিকে, হাঁটার গতি তখন স্বাভাবিক গতির চেয়ে অনেক কম হয়ে যায়। সারা পৃথিবীই তখন আপনার বিরুদ্ধে, এমনকি আপনার শরীরও। আর ঠিক তখনই যদি পাওনাদার কল করে বসে তখন তো আর কথাই নেই, আপনার হাত কি রিসিভ বাটনে চাপ দেবে কি দেবে না এই দ্বিধা দ্বন্দ্বে পুরো পৃথিবী গ্রাস করে ফেলে। মাটি উপরে চলে যায়, আকাশ নিচে নেমে আসে। এককথায় তখন একটা মাতাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। মদের নেশা যখন তুঙ্গে তখন এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়। এটাকে একদিকে ইতিবাচক হিসেবে ধরা যায়, এটা হচ্ছে বিনে পয়সায় মদ গেলার মত একটা জিনিস। তবুও আমার মনে হয় না, চূড়ান্ত মদ প্রেমিও এই মদটা গিলতে চাইবে। এই দৈন্যদশায় একজন আমাদের খুব প্রিয় হয়ে যান, তিনি আর কেউ নন, ইনি সৃষ্টিকর্তা। তখন প্রতিক্ষণেই আমরা উনার সাহায্য চাই, প্লিজ, প্লিজ যেন টাকাটা পাওয়ার একটা ব্যবস্থা হয়। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে রাত সবকিছুই কোন না কোন ভাবে এই অর্থনীতির সাথে জড়িত। টাকা থাকলে নাকি বাঘের দুধ পাওয়া যায়, না থাকলে নাকি ভালোবাসা জানলা দিয়ে পালায়। এগুলো পুরো সত্য কিনা জানিনা তবে কিছুটা তো অবশ্যই। মনে মনে যে যতই সৎ থাকুক না কেন, একজন টাকাওয়ালা অসৎ ব্যাক্তিকেই দাম বেশি দেয়, একজন টাকা কম আছে এমন সৎ ব্যাক্তিকে না, মনের ঘরে শ্রদ্ধার নিক্তিটা হয়তো অন্য কথা বলে কিন্তু সামনাসামনি ঘটনাটা এমনই ঘটে। বিয়ের বাজারেও এই জিনিসটা খুব দেখতে পাওয়া যায়, টাকার ওজনে জীবনের অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। যেভাবেই বলি এই অর্থনীতি ব্যাপারটা অগ্রাহ্য করার মত না। তাই অর্থকে অনর্থের মূল বলতে পারছি না, এটা বেশিরভাগ মানুষের জন্য সত্য না। বরং একথাটাই যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে, অর্থনীতি যেদিকে হাঁটে মননীতিও সেদিকে হাঁটে। ব্যতিক্রম কিছু সময়ও আছে যেমন প্রথম প্রেমে পড়ার মুহূর্ত, তখন টাকা পয়সা এসব জিনিস কোন ঘটনাই না। আরও এমন অনেক মুহূর্তই হয়তো আছে। তবে এমন একটা সময় হয়তো আসবে, যখন পৃথিবীর অর্থনীতি পুরোই বদলে যাবে, গরীব নামে কোন শব্দ থাকবে না, তখন অর্থনীতি নিয়ে কেউ ভাববে না, ভাববে মন নিয়ে। তখনও মানুষ থাকবে, মন থাকবে না। সেই সময়টা হয়তো খুব দূরে নয়, খুব কাছেই।
বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৪
অর্থনীতি এবং মননীতি
অর্থই অনর্থের মূল, ছোটবেলায় বইতে পড়া একটা কথা। একথা কি আসলেই সত্য? যদি সত্য হয়ও তবুও সবসমেয়ের জন্য না, সবার জন্য না। ধরুন আপনি ছোটখাটো ঋণগ্রস্ত একজন মানুষ, আপনার ঋণের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা। পরিমাণ টা যতই হোক না কেন, ঋণ তো, এর চেহারা সত্যিই ভয়ংকর। পাওনাদার আপনার দরজায় কড়া নাড়ছে, এখন অবশ্য কেউ আর দরজায় কড়া নাড়ে না, মোবাইলে নাড়ে, ফেসবুকে নাড়ে, পাওনা ফেরত চেয়ে ইমেইলও করতে পারে। যেখানেই নাড়ুক নাড়াটা আপনার সারা শরীরই কাঁপিয়ে দেবে। ধরুন আপনার পকেটে আছে পাঁচ টাকা, পাওনাদার তখন পাওনা ফেরত চাইল, তখন অর্থ জিনিস টা কি সেটা আপনি প্রত্যেকটা সেকেন্ডেই টের পাবেন। আসলে এই অর্থনীতি শব্দটাকে আমরা কখনই অগ্রাহ্য করতে পারিনা। হ্যা, অর্থনীতি মানেই জীবনের সব সুখ শান্তি তেমনটা নয়, কিন্তু এটা এমন একটা কিছু যা এই সুখ শান্তি বলুন আর যাই বলুন সবকিছুর সাথেই সম্পর্কযুক্ত। মননীতি আর অর্থনীতির একটা গাড় সম্পর্ক আছে, পকেটের অবস্থা যখন খারাপ তখন পকেটের চেহারাটা আপনার মুখের চেহারায় প্রভাব ফেলে। আসলে শুধু মুখ না, পুরো শরীরেই প্রভাব ফেলে। কারো সাথে কথা বলছেন, উনার কথার প্রত্যুত্তরে শুধু হ্যা হ্যা করছেন, আপনি কিন্তু উনার একটা কথাও শোনেননি, শুনবেন কি করে, আপনি তো আছেন অন্য দুনিয়ায়। হাসিটা তখন অনেক কষ্টে বের হয়, খুব করুণ অর্থনৈতিক অবস্থায় মনে হয়না কেউ মনখুলে হাসতে পারে। যখন আপনি হাঁটবেন তখন দেখবেন আপনার পা একদিকে হাঁটছে আর আপনি একদিকে, হাঁটার গতি তখন স্বাভাবিক গতির চেয়ে অনেক কম হয়ে যায়। সারা পৃথিবীই তখন আপনার বিরুদ্ধে, এমনকি আপনার শরীরও। আর ঠিক তখনই যদি পাওনাদার কল করে বসে তখন তো আর কথাই নেই, আপনার হাত কি রিসিভ বাটনে চাপ দেবে কি দেবে না এই দ্বিধা দ্বন্দ্বে পুরো পৃথিবী গ্রাস করে ফেলে। মাটি উপরে চলে যায়, আকাশ নিচে নেমে আসে। এককথায় তখন একটা মাতাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। মদের নেশা যখন তুঙ্গে তখন এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়। এটাকে একদিকে ইতিবাচক হিসেবে ধরা যায়, এটা হচ্ছে বিনে পয়সায় মদ গেলার মত একটা জিনিস। তবুও আমার মনে হয় না, চূড়ান্ত মদ প্রেমিও এই মদটা গিলতে চাইবে। এই দৈন্যদশায় একজন আমাদের খুব প্রিয় হয়ে যান, তিনি আর কেউ নন, ইনি সৃষ্টিকর্তা। তখন প্রতিক্ষণেই আমরা উনার সাহায্য চাই, প্লিজ, প্লিজ যেন টাকাটা পাওয়ার একটা ব্যবস্থা হয়। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে রাত সবকিছুই কোন না কোন ভাবে এই অর্থনীতির সাথে জড়িত। টাকা থাকলে নাকি বাঘের দুধ পাওয়া যায়, না থাকলে নাকি ভালোবাসা জানলা দিয়ে পালায়। এগুলো পুরো সত্য কিনা জানিনা তবে কিছুটা তো অবশ্যই। মনে মনে যে যতই সৎ থাকুক না কেন, একজন টাকাওয়ালা অসৎ ব্যাক্তিকেই দাম বেশি দেয়, একজন টাকা কম আছে এমন সৎ ব্যাক্তিকে না, মনের ঘরে শ্রদ্ধার নিক্তিটা হয়তো অন্য কথা বলে কিন্তু সামনাসামনি ঘটনাটা এমনই ঘটে। বিয়ের বাজারেও এই জিনিসটা খুব দেখতে পাওয়া যায়, টাকার ওজনে জীবনের অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। যেভাবেই বলি এই অর্থনীতি ব্যাপারটা অগ্রাহ্য করার মত না। তাই অর্থকে অনর্থের মূল বলতে পারছি না, এটা বেশিরভাগ মানুষের জন্য সত্য না। বরং একথাটাই যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে, অর্থনীতি যেদিকে হাঁটে মননীতিও সেদিকে হাঁটে। ব্যতিক্রম কিছু সময়ও আছে যেমন প্রথম প্রেমে পড়ার মুহূর্ত, তখন টাকা পয়সা এসব জিনিস কোন ঘটনাই না। আরও এমন অনেক মুহূর্তই হয়তো আছে। তবে এমন একটা সময় হয়তো আসবে, যখন পৃথিবীর অর্থনীতি পুরোই বদলে যাবে, গরীব নামে কোন শব্দ থাকবে না, তখন অর্থনীতি নিয়ে কেউ ভাববে না, ভাববে মন নিয়ে। তখনও মানুষ থাকবে, মন থাকবে না। সেই সময়টা হয়তো খুব দূরে নয়, খুব কাছেই।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন