আমরা জীবনের স্রোতে মাঝে মাঝে হারিয়ে যাই। ক্যালকুলেটরের বোতাম চেপে হিসেব কষি, অংকের খাতা ফুরাই একের পর এক। সমাজের তথাকথিত বাস্তবতায় বিসর্জন দেই সব অনুভূতির জায়গা। সফলতার ম্যারাথনে দৌড়ে যাই সবসময়। নিশ্চয়তার ছাপোষা বন্ধনে নিজেকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখি। আমরাও সিনেমা দেখি, কল্পনায় ভাসি, সুপারম্যান হয়ে যাই কল্পনার ফ্রেমে। গল্পের বই এখনো অনেকের বালিশের তলায়, এডভেঞ্চারে মাতি, রবীন্দ্রনাথের সাথে কথা কই। বাথরুমটা আমাদের নিজস্ব জায়গা,গায়ক হতে সময় লাগে না ঐ জায়গাটায়। মাঝে মাঝে আমরাও শচিন কিংবা মেসি। একলা ঘরে আয়নার সামনে এক একজন শাহরুখ খান,চুল আচরাই বারবার, একা একাই নাচি। কিন্তু যখন ঐ বাস্তবতা নামক অধ্যায়টা খুলে পড়া শুরু করি, তখন আমরা আবার গুটিয়ে নেই নিজেকে। ভাললাগার জিনিসগুলো থেকে লক্ষ মাইল দূরে সরে যাই। একটা নিরাপদ পৃথিবী গড়তে থাকি নিজের ভেতর। স্বার্থপর একটা জগতের জমি কিনে নেই, যেখানে একলা একলাই থেকে যাই নিজের ভেতর। এ যেন মুখ আছে তবু বলতে না পারা, চোখ আছে তবু দেখতে না পারা, সুর আছে তবু গাইতে না পারা।এই গোলকধাঁধায়ই কাটে জীবন, শেষ জীবনে এসে থেকে যায় শুধু বিয়োগচিহ্ন। অংক তখন অন্য কথা বলে,গল্প তখন অন্য কথা লেখে। এখনি চাই, এখনি দাও। আমরা এখনি পরিবর্তন চাই, যেখানে পরিবর্তন মানে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। চায়ের দোকানের বেঞ্চ কাঁপিয়ে ফেলি তর্কের ঝড়ে, দেশ-কাল-পাত্র বদলে দেই। শুধু বদলাই না নিজেকে।
কখনও নিজেকে প্রশ্ন করিনা আমি কি চাই, কিইবা আমার ভালোলাগা। ক্ষুদ্র একটা সময় অপেক্ষা করিনা ঐ ভালোলাগার জিনিসটার জন্য, বিকিয়ে দেই নিজেকে সস্তা বাজারদরে। বুঝি খানিকক্ষণ পর, কিন্তু ততক্ষণে ট্রেন চলে গেছে আমায় ছেড়ে বহু দূরে।
কখনও নিজেকে প্রশ্ন করিনা আমি কি চাই, কিইবা আমার ভালোলাগা। ক্ষুদ্র একটা সময় অপেক্ষা করিনা ঐ ভালোলাগার জিনিসটার জন্য, বিকিয়ে দেই নিজেকে সস্তা বাজারদরে। বুঝি খানিকক্ষণ পর, কিন্তু ততক্ষণে ট্রেন চলে গেছে আমায় ছেড়ে বহু দূরে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন