সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৪

একফোঁটা জল এনে দে

একফোঁটা জল এনে দে
যাতে থাকবে প্রাপ্তির ঠিকানা
ছুঁয়ে দে আমায়
ভুগছি বহুকাল না পাওয়ায়

ধুয়ে দে আমায়
ছুঁয়ে দে

আমি এই সাগরের বিশালে হেঁটেছি অনেকবার
জলের কাছে গিয়েছি
ডুবে যেতে ছেয়েছি

একফোঁটা জল এনে দে
ধুয়ে দে আমায়
ছুঁয়ে দে 

শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

মাইক্রোস্কোপ

আমরা আসলে হাঁটছি একটা সিনেমার ভেতর, একটা আত্মজীবনীর ভেতর। প্রতিটা সময় আমরা যা করছি তা লেখা হচ্ছে কোন এক খাতায়। এগুলো একেকটি স্থিরচিত্র, পুরোটা জুড়লেই একটা বা অসংখ্য সিনেমা। আমাদের এই অনন্তকাল ধরে হেঁটে চলার প্রকৃত মানে কি তা হয়তো আমরা কেউ জানিনা। তবু আমরা হাঁটছি নতুনের স্বপ্নে, পুরনোকে খুঁজতে। এই হাঁটার মাঝেই নতুন গল্প জুড়ছে সিনেমায়। যুদ্ধ, সন্ধি, ভালবাসা সব এই ভেসে বেড়ানরই একেকটা প্রতিশব্দ। ছোট থেকে বড় হচ্ছি, বুড়ো হচ্ছি, শেষমেশ না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছি। তবে জন্ম দিয়ে যাচ্ছি ইতিহাসের, গল্পের, গানের, কবিতার। আমরা যদি আমাদের একদম শেষের দিনগুলোতে তাকাই, যখন হয়তো অপেক্ষায় থাকবো যেকোন মুহূর্তে মৃত্যুকে জড়িয়ে ধরার। তখন আমরা কি চাই? চাই আমাদের কাছের মানুষগুলোর নিরাপদ ভবিষ্যৎ। তখন আমার আর কিছু চাইবার নেই। কোন বিলাসবহুল বাড়ি, দামি গাড়ি, কিছুই চাইবার নেই। আরেকটা জিনিস হয়তো আমরা সবাই চাইব, তা হল ভালবাসা। এই একটা জিনিসের কাছে বন্দি আমরা, এটা কেনা যায়না। কিন্তু খুব কম মানুষই ভালোবাসা নিয়ে মরে। পৃথিবীতে কয়েক ধরনের মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে চাহিদার নিক্তিতে। এক, যারা শুধু বাঁচতে চায়। দুই, যারা আভিজাত্য চায়। তিন, যারা সম্মান চায়। চার, যারা ভালোবাসা চায়। প্রথম দুই শ্রেণির লোক এই পৃথিবীর পরিবর্তনে কোন ভুমিকা রাখে না, এরা শুধুই নিজেদের, হয়তো পরিবারের, কিন্তু কখনই সমাজের নয়, পৃথিবীর নয়। এরা হিসেবে খুব ভালো, খুব দ্রুত গননা করতে পারে। তৃতীয় শ্রেণির লোকেরা সৎ, কর্মঠ। এরাও পরিবর্তনে বিশ্বাসী নয়। এদের বড় একটা গুণ হল এরা মানুষের উপকার না করলেও ক্ষতি করে না। চতুর্থ শ্রেণির লোকই এ পৃথিবীতে বেশি প্রয়োজন, কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এ শ্রেণির লোক পৃথিবীতে খুব কম। এরা সবসময় রেয়ার পিস। হয়তো হাজারে একটা, হয়তো লাখে একটা, হয়তো কোটিতে। এ মানুষগুলো এমন একটা পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে যেখানে মানুষের মাঝে কোন বিভেদ থাকবে না, বৈষম্য থাকবে না। মানুষের একটাই পরিচয় থাকবে, সে মানুষ। এখানে তার ওজন মাপা হবে, সে কতটুকু ভালবাসতে পারে তার ওজনে, টাকার ওজনে নয়। এখানে তার উচ্চতা মাপা হবে তার মানসিক উচ্চতা দিয়ে, তার বাড়ির উচ্চতা দিয়ে নয়। এই চতুর্থ শ্রেণির মানুষগুলো যেকোন মূল্যে শান্তির পক্ষে, এরা কাউকে কষ্ট দিতে পারে না, কারো উপর রাগ ধরে রাখতে পারে না। খুব সহজেই ভুলে যায়, ক্ষমা করে দেয়। এরা প্রচণ্ড ক্ষমাশীল, কারণ, এরা অনেক বড় সপ্নবাজ। এদের স্বপ্ন এ পৃথিবীর চেয়েও অনেক বড়, স্বপ্নের ভেতরই হাটে এ মানুষগুলো। তাই এদের কাছে অপরের সৎ গুনগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই মানুষগুলো অনেকটা শিশুর মত, কোমল, নরম। এরা সদা তরুন, সবুজ। আপনি যদি এই চতুর্থ হয়ে থাকেন, তবে একটা কথা, আপনি কত টাকা কামাবেন তা জানিনা, কিন্তু, মানুষ আপনাকে কখনই ভুলবে না। বিপদের সময় যদি কারো কথা মনে ভাসে, তাহলে সে আপনি। আরেকটা কথা, মনে রাখবেন, সৃষ্টিকর্তা আপনাকে প্রচণ্ড ভালবাসেন। তাই হাসুন, ভালবাসুন।

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৪

হাইওয়ে

লং ড্রাইভ, একা ঘড়ি
লাল সবুজ আশার স্রোতে
ছুটছি স্বপ্নের হাইওয়ে
ছুটছি দূর বহুদূর
স্বপ্নে বুদ, স্বপ্নে চূড়

উত্তর জ্বলে, উত্তর নেভে
প্রশ্নের ভিড় রাতভর
শুন্য অংক, রঙিন বাতি
প্রতিদিন,প্রতিরাতে আঁকি

হাইওয়ে ক্লান্ত, শ্রান্ত
ঘুমায় দিনশেষে
আমরা কি আজো পেয়েছি খুঁজে সে স্বপ্নের রেখা?
নাকি পরে আছি রেড সিগন্যালে

কিছু কথা সাইরেন হয়ে বাজবে

নিশ্চুপে কিছু কথা মিলিয়ে যাবে, কেউ জানবে না
যেখানে অজস্র ব্যর্থ প্রেম এসে জড়ো হয়
যখন সুখ আর দুঃখের ঠিক মাঝখানে কেউ একজন দাড়িয়ে
তখন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা

সুতোয় টান লাগে, ঘুড়ি উড়ে যায়
শব্দের শেকল ভাঙবে বোধহয়,
 চুরি যাবে ভালবাসা

তবু জেনে রেখ, কিছু কথা সাইরেন হয়ে বাজবে। 
 

স্টিল সিঙ্গেল




জানি একদিন সকালের ঘুম,
তুমি আঙুলের ডগায় ছুঁয়ে দেবে 
চুল নাড়বে আর বলবে 
ওঠো, ঘুমাবে আর কত
দুপুরের ব্যস্ত পকেট পেরিয়ে 
তোমার কল আমার কানে বলবে 
হ্যালো, খেয়েছ
এখনো খাওনি?
কেন?
কিসের এত কাজ তোমার
বিকেলের শেষ চায়ে 
তোমার অপেক্ষা বাড়বে 
বলবে, চলে এসো তাড়াতাড়ি 
আজ কিন্তু রাতে 
শুধু আলুভর্তা আর ডাল 
আমি বলব
তাতে কি?
তোমার আঙুলের ঘ্রান তো পাবো
সন্ধ্যেবেলার ক্লান্ত হাওয়ায় 
আমি ঘড়ির কাটা গুনব,
ঠিক রাত নটায়,
কলিংবেলে খুঁজব তোমায়
এরপর হয়ত ভাতের প্লেটে ভালবাসা গুনব
টিভির রিমোটে সুখ
এক,দুই,তিন করে আরো কিছুটা সময়,
রাত টা আস্তে আস্তে  সকাল খুঁজতে থাকবে
জেগে থাকব তুমি আমি,
দরজার সিটকিনিতে ঝুলিয়ে রাখব ভালবাসা
আতশ কাঁচে দেখব তোমায় 
শুঁকব পৃথিবীর যত আছে ঘ্রান  

এতক্ষণ যা বলছিলাম 
সবই শুধু কল্পনা 
বাস্তব দেয়ালে কবে লেখা হবে  জানি না
একটা কথা জানি 
আজও একা আছি 
রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস 
স্টিল সিঙ্গেল 

কবে যে তুমি নামক তোমায় খুঁজে পাব
কোন দূরবীনে দেখলে
জানি না
তবু ঐ দিনটার ভাবনা আমায় জুড়ে আছে

টাইমলাইন




সময়ের ছায়ার সাথে হাঁটছে তোমার ছায়া
পরিপক্ক সব অভিজ্ঞতা
সত্য মিথ্যার খাতায় শুধু আঁচর কয়েকটা

কিছু আধ ঘুমে দেখা সপ্ন
আজও দেখা যায় রাস্তার ধারে,
সবাই যে যার মত গুছিয়ে নিয়েছে 
পৃথিবী কখনই থেমে থাকবে না

আবার সবাই এই পথেই হাঁটবে
একটু সময় পর,
সূর্য প্রতিদিনই উঠবে
তুমি নিশ্চিত থেকো