আমরা আসলে হাঁটছি একটা সিনেমার ভেতর, একটা আত্মজীবনীর ভেতর। প্রতিটা সময় আমরা যা করছি তা লেখা হচ্ছে কোন এক খাতায়। এগুলো একেকটি স্থিরচিত্র, পুরোটা জুড়লেই একটা বা অসংখ্য সিনেমা। আমাদের এই অনন্তকাল ধরে হেঁটে চলার প্রকৃত মানে কি তা হয়তো আমরা কেউ জানিনা। তবু আমরা হাঁটছি নতুনের স্বপ্নে, পুরনোকে খুঁজতে। এই হাঁটার মাঝেই নতুন গল্প জুড়ছে সিনেমায়। যুদ্ধ, সন্ধি, ভালবাসা সব এই ভেসে বেড়ানরই একেকটা প্রতিশব্দ। ছোট থেকে বড় হচ্ছি, বুড়ো হচ্ছি, শেষমেশ না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছি। তবে জন্ম দিয়ে যাচ্ছি ইতিহাসের, গল্পের, গানের, কবিতার। আমরা যদি আমাদের একদম শেষের দিনগুলোতে তাকাই, যখন হয়তো অপেক্ষায় থাকবো যেকোন মুহূর্তে মৃত্যুকে জড়িয়ে ধরার। তখন আমরা কি চাই? চাই আমাদের কাছের মানুষগুলোর নিরাপদ ভবিষ্যৎ। তখন আমার আর কিছু চাইবার নেই। কোন বিলাসবহুল বাড়ি, দামি গাড়ি, কিছুই চাইবার নেই। আরেকটা জিনিস হয়তো আমরা সবাই চাইব, তা হল ভালবাসা। এই একটা জিনিসের কাছে বন্দি আমরা, এটা কেনা যায়না। কিন্তু খুব কম মানুষই ভালোবাসা নিয়ে মরে। পৃথিবীতে কয়েক ধরনের মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে চাহিদার নিক্তিতে। এক, যারা শুধু বাঁচতে চায়। দুই, যারা আভিজাত্য চায়। তিন, যারা সম্মান চায়। চার, যারা ভালোবাসা চায়। প্রথম দুই শ্রেণির লোক এই পৃথিবীর পরিবর্তনে কোন ভুমিকা রাখে না, এরা শুধুই নিজেদের, হয়তো পরিবারের, কিন্তু কখনই সমাজের নয়, পৃথিবীর নয়। এরা হিসেবে খুব ভালো, খুব দ্রুত গননা করতে পারে। তৃতীয় শ্রেণির লোকেরা সৎ, কর্মঠ। এরাও পরিবর্তনে বিশ্বাসী নয়। এদের বড় একটা গুণ হল এরা মানুষের উপকার না করলেও ক্ষতি করে না। চতুর্থ শ্রেণির লোকই এ পৃথিবীতে বেশি প্রয়োজন, কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এ শ্রেণির লোক পৃথিবীতে খুব কম। এরা সবসময় রেয়ার পিস। হয়তো হাজারে একটা, হয়তো লাখে একটা, হয়তো কোটিতে। এ মানুষগুলো এমন একটা পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে যেখানে মানুষের মাঝে কোন বিভেদ থাকবে না, বৈষম্য থাকবে না। মানুষের একটাই পরিচয় থাকবে, সে মানুষ। এখানে তার ওজন মাপা হবে, সে কতটুকু ভালবাসতে পারে তার ওজনে, টাকার ওজনে নয়। এখানে তার উচ্চতা মাপা হবে তার মানসিক উচ্চতা দিয়ে, তার বাড়ির উচ্চতা দিয়ে নয়। এই চতুর্থ শ্রেণির মানুষগুলো যেকোন মূল্যে শান্তির পক্ষে, এরা কাউকে কষ্ট দিতে পারে না, কারো উপর রাগ ধরে রাখতে পারে না। খুব সহজেই ভুলে যায়, ক্ষমা করে দেয়। এরা প্রচণ্ড ক্ষমাশীল, কারণ, এরা অনেক বড় সপ্নবাজ। এদের স্বপ্ন এ পৃথিবীর চেয়েও অনেক বড়, স্বপ্নের ভেতরই হাটে এ মানুষগুলো। তাই এদের কাছে অপরের সৎ গুনগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই মানুষগুলো অনেকটা শিশুর মত, কোমল, নরম। এরা সদা তরুন, সবুজ। আপনি যদি এই চতুর্থ হয়ে থাকেন, তবে একটা কথা, আপনি কত টাকা কামাবেন তা জানিনা, কিন্তু, মানুষ আপনাকে কখনই ভুলবে না। বিপদের সময় যদি কারো কথা মনে ভাসে, তাহলে সে আপনি। আরেকটা কথা, মনে রাখবেন, সৃষ্টিকর্তা আপনাকে প্রচণ্ড ভালবাসেন। তাই হাসুন, ভালবাসুন।